| বঙ্গাব্দ

বিএনপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নির্বাচনী সমঝোতা ২০২৫ | আসন ভাগাভাগির ঘোষণা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-12-2025 ইং
  • 2022143 বার পঠিত
বিএনপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নির্বাচনী সমঝোতা ২০২৫ | আসন ভাগাভাগির ঘোষণা
ছবির ক্যাপশন: বিএনপি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জমিয়ত সমঝোতা: ১৯৫০ থেকে ২০২৫-এর রাজনৈতিক মেরুকরণ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আদর্শিক ঐক্য এবং নির্বাচনী কৌশলগত জোট গঠনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত প্রাচীন। ১৯৫০-এর দশকে যখন এ দেশে সংসদীয় রাজনীতির ভিত্তি রচিত হচ্ছিল, তখন থেকেই বিভিন্ন দল নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় জোটবদ্ধ হয়েছে। সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ধর্মভিত্তিক অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

১৯৫০-২০২৫: জমিয়ত ও বিএনপির রাজনৈতিক বিবর্তন

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শেকড় ১৯১৯ সালের অবিভক্ত ভারতে প্রোথিত থাকলেও ১৯৪৫ সালে পাকিস্তান আন্দোলনকে সমর্থন করার মধ্য দিয়ে এর বর্তমান রূপ স্পষ্ট হয়। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তানে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জমিয়ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির জন্ম হওয়ার পর থেকেই দলটি ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগ ও জাতীয়তাবাদের সমন্বয় ঘটিয়ে রাজনীতি করে আসছে।

১৯৯৯ সালে বিএনপি যখন চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে, তখন থেকেই জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপির অন্যতম বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে পরিচিতি পায়। মাঝে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে জোটের কাঠামোতে পরিবর্তন এলেও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সালে এসে এই দুই দলের সম্পর্ক নতুন এক কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছেছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সমঝোতার ঘোষণা

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নির্বাচনী সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন:

  • বিএনপি পক্ষে: মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

  • জমিয়ত পক্ষে: সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আমরা একমত হয়েছি। জমিয়তের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে, যার অধীনে আমরা পরস্পরের আসনে প্রার্থী দেব না।"

সমঝোতার বিশেষত্ব ও নির্বাচনী আসন

গুগল এনালাইসিস ও বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতার ফলে সিলেট-৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং সুনামগঞ্জের নির্দিষ্ট কিছু আসনসহ মোট ৪টি আসনে বিএনপি জমিয়তের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। বিপরীতে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সারা দেশে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করবে। এটি মূলত একটি কৌশলগত নির্বাচনী সমঝোতা, যার লক্ষ্য হলো ভোট ভাগাভাগি রোধ করে একটি স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত করা।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মানুষ সবসময়ই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের শক্তির ঐক্য চেয়েছে। ১৯৯০-এর আন্দোলন কিংবা ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই শক্তির মিলনমেলার সুফল পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের এই সমঝোতা কেবল আসন ভাগাভাগি নয়, বরং এটি বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের পথে বড় এক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


সূত্র: ১. দৈনিক যুগান্তর (জাতীয় রাজনীতি বিভাগ, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক। ৩. উইকিপিডিয়া ও রাজনৈতিক ইতিহাস বিষয়ক এনসাইক্লোপিডিয়া (১৯৫০-২০২৫)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency